আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাবিত 'গণভোট' ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে প্রায় ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই মাঠে নেমেছেন এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। বিজিবি সদস্যরা মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চোরাচালান ও বহিরাগত অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, "একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই লক্ষে আমাদের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনকালীন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা কোনো ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
শুধুমাত্র বিজিবি নয়, নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে পুলিশ, র্যাব, আনসার এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১০ লক্ষ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটও মাঠে রয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই দ্বৈত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখতে এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।


Post a Comment