রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ ও তার এক সহযোগীকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ রোববার (৮ মার্চ) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার একটি গোপন আস্তানা থেকে তাদের আটক করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পর ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তারা কলকাতায় অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করেছিল। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখার যোগাযোগ এবং ভারতীয় পুলিশের বিশেষ শাখার যৌথ তৎপরতায় আজ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলেও ফয়সালসহ মূল আসামিরা দীর্ঘদিন পলাতক ছিল।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "গ্রেফতারকৃত ফয়সালকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় কাজ শুরু হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং মোটিভ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।"
শরীফ ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একজন পরিচিত মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি গ্রেফতারের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

Post a Comment